জনতার দাবী

তাবরেজ আনসারির পিটিয়ে হত্যা ও দেশজুড়ে চলমান উগ্র সাম্প্রদায়িকতার নিন্দা করলেন আব্বাস সিদ্দিকী

  • 154
  •  
  •  
  •  
    154
    Shares

সেখ জিন্নাত আলি, বিবি নিউজ, ফুরফুরা শরীফ, ২৯ শে জুন : গত কয়েকদিন থেকে উত্তাল হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। সদ্য বিবাহিত নিরীহ মুসলিম তরুণ তাবরেজ আনসারির দুঃখ জনক হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিন্দার ঝড় উঠেছে। শুধু তবরেজের বিবাহিত স্ত্রী অথবা তার পরিবার নয়, তার প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সমগ্র ভারতবাসী তার হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। শুধু মাত্র ভিন ধর্মের মানুষ হওয়ার কারনে একজন আরেকজনকে এভাবে খুন করতে পারে ? উগ্রবাদী কিছু যুবক দেখিয়ে দিল, কিভাবে ধর্মের বুলি আওড়াতে আওড়াতে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা যায়। তবরেজের হত্যার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়েও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।

তাবরেজ হত্যার এই ঘটনায় ব্যথিত এবং মর্মাহত হয়েছেন ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের কর্নধার পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী সাহেব। তিনি এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী ঘটনার সমতুল বলে মনে করেন। তিনি বলেন যে, “এই ঘটনা সন্ত্রাসের থেকেও ভয়ঙ্কর। গনতান্ত্রিক দেশে যেখানে সকল ধর্মের মানুষের সমান ভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকার সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃত, সেখানে একটি বিশেষ ধর্মের স্লোগান দিতে দিতে কি ভাবে একজন নিরীহ মুসলিমকে হত্যা করা যায় ? এই ঘটনা শুধুমাত্র ধর্মীয় স্বাধীনতায় নয়, এই ঘটনা মানুষের ব্যাক্তি স্বাধীনতাকেও লঙ্খিত করেছে। অবিলম্বে দোষীদের কঠোর শাস্তির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং ঝাড়খণ্ড সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানান তিনি।”

প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গকেও নিষ্কৃতি দেয়নি উগ্র ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ঘটনা। কয়েকদিন আগে ক্যানিং লোকালে মাদ্রাসা শিক্ষক সহ কয়েকজনের উপর উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে। এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন যে, “এই বাংলা তথা ভারতবর্ষ সম্প্রীতির। এখানে উগ্রতার কোন স্থান নেই। যারা ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে অথবা ধর্মের নাম করে মানুষ মারছে তারা আসলে সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এক হতে হবে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকে কঠোর হাতে এই উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের দমন করতে হবে। উপযুক্ত শাস্তি পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় সন্ত্রাসের ঘটনার তালিকায় তাবরেজ একটি সংযোজন মাত্র। তার মত কত পরিবারের কান্নার আওয়াজ এখনও কানে বাজছে। শুধু ঝাড়খণ্ড বা পশ্চিমবঙ্গ নয়, এই ঘটনা আসতে আসতে গ্রাস করছে সমগ্র ভারতবর্ষকে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং এবং উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের সঠিকভাবে দমন করা।”

গতকাল জুম্মার নামাজ শেষে ফুরফুরা দরবার শরীফ থেকে, নিহত তাবরেজ আনসারি সহ উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসে নিহত সকল ব্যক্তির রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা হয়। আহ্বান করা হয় কঠিন সময়ে শান্ত ও সংযত থেকে শান্তি ও সম্প্রীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *