শিক্ষা

গণটোকাটুকি রুখতে অভিনব কায়দা! পরিক্ষার্থী কলেজ ছাত্রদের মুখে বসল কাগজের বাক্স

  • 11
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares

বি.বি নিউজ ওয়েবডেস্ক: প্রশ্নটা চেনা। কিন্তু উত্তরটা ঠিক মাথায় আসছে না। বেশ কিছুক্ষন মাথা চুলকে, দাতে নখ কেটে, কলম কামড়েও যখন উত্তর পেট থেকে কলমের ডগা অবধি পৌঁছতে ব্যর্থ। ঠিক তখন টিচারের গতিবিধির উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে ধাঁ করে পাশের খাতায় উঁকি। কলেজ হোক বা স্কুল, এই চিত্রটা প্রতেকেরই বড় আপনার। কিন্তু পরীক্ষার হলে এমন বেয়াদপি সইবে কেন শিক্ষকরা? তাই নকল রুখতে শুধু কড়া নয়, অভিনব পদক্ষেপ নিল কর্ণাটকের একটি কলেজ। যা দেখে তাজ্জব গোটা দেশ। হাসবেন না কাঁদবেন দ্বিধায় পড়েছেন অনেকেই।

কর্নাটকের (Karnataka) ওই বেসরকারি কলেজে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে বসলেন কাঠবোর্ডের বাক্স (cardboard box) বা কার্টন মাথায় পরে।বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দূরের হাভেরীর ভগত প্রাক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থীদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাংঘাতিকভাবে ভাইরাল হচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে তাঁরা ক্লাসরুমে কার্ডবোর্ডের বাক্স মাথায় পরে পরীক্ষা দিতে বসেছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের মিড-টার্ম অর্থাৎ মধ্য-মেয়াদী পরীক্ষা দিতে বসেছিলেন ওই অদ্ভুত কাঠবোর্ডের হেলমেট পরেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে পরীক্ষা পরিদর্শকদেরও পরীক্ষার্থীদের দিকে নজর রাখতে দেখা যায়।

ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এরকম আজব পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় । উঠেছে এই প্রশ্নও যে যদি সত্যিই এই প্রক্রিয়াটি টোকাটুকি রুখতে পারে তবে আরও অনেক প্রশ্ন ওঠে।

শুক্রবার, কর্নাটকের শিক্ষামন্ত্রী এস সুরেশ কুমার সংবাদমাধ্যমের সামনে এই খবর প্রসঙ্গে বলেন যে এই ঘটনাটি “পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য”। “এই পদ্ধতিকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করার অধিকার কারও নেই। এই বিকৃত কাণ্ডের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি টুইট করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর মতামতে সায় দিয়েছেন। “এটি শিক্ষার্থীদের জন্য হাস্যকর এবং অবমাননাকর। হ্যাঁ,গণটোকাটুকি একটি সমস্যা, তবে তা সমাধানের উপায় এটা নয়। যে বা যাঁরা এই ব্যবস্থার অনুমোদন করেছেন, তাঁদের শাস্তি হওয়া উচিত”, লেখেন একজন।

যদিও এই বিষয়টিকে ন্যায়সঙ্গত বলেই দাবি করে কলেজের প্রধান এমবি সতীশ সাংবাদিকদের বলেন যে বিহারের একটি কলেজও পরীক্ষার সময় টোকাটুকি ঠেকাতে একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেই সময় সোশ্যাল সাইটগুলি এই পদ্ধতির ব্যাপক প্রশংসা করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *