বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভারত-বন্ধু ইসরায়েলের নজরদারিতে ভারতের বুদ্ধিজীবীরা

  •  
  •  
  •  
  •  

বি.বি নিউজ ওয়েবডেস্কঃ ভারতে সাংবাদিক, কূটনীতিক, শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও মানবাধিকার সংগঠকদের ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা করেছিল ইসরায়েল।

দেশের বুদ্ধিজীবীদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে স্পাইওয়্যার ঢুকিয়ে তাদের ওপর আড়িপাতার চেষ্টা চালায় ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনএসও।

তবে হোয়াটসঅ্যাপের কাছে আগেই ধরা পড়ে যায়। তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়ে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে দেয়।

স্পাইওয়্যার হচ্ছে এক ধরনের সফটওয়্যার, যার সাহায্যে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া যায়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ভারতে কমপক্ষে ২৪ জন বিশিষ্টজনের ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা চালানো হয়। কোনো নাম প্রকাশ না করে তারা জানায়, তাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, দলিত কর্মী এবং সাংবাদিক।

দ্য স্ক্রল জানায়, ছত্তিশগড়ের আদিবাসী সংগঠক বেলা ভাটিয়া, দলিত অধিকার সংগঠক ডিগ্রি প্রসাদ চৌহান, নাগপুরের আইনজীবী নিহালসিং রাঠোর, বিবিসির প্রাক্তন সাংবাদিক শুভ্রংশু চৌধুরী, দিল্লির অধিকার কর্মী আশিস গুপ্ত, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সারোজ গিরিসহ অন্তত ১০ জন বিশিষ্টজন নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করার চেষ্টা করেছিল ইসরায়েলি সংস্থা।

এক টিভি চ্যানেল সাংবাদিক সিদ্ধান্ত সিব্বল টুইট করে দাবি করেছেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট টার্গেট করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানিয়েছে।

নিহালসিং রাঠোর দাবি করেন, ভারত সরকারের কোনো নিরাপত্তা সংস্থা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। দলিতদের অধিকার আদায়ের ভিম কোরগাও লড়াইয়ের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গত বছর আয়োজিত অনুষ্ঠানে হামলা ও সহিংসতা সৃষ্টি মামলায় লড়ছেন এই অধিকার সংগঠক।
চলতি বছরের মে পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী এই নজরদারির চেষ্টা চালায় এনএসও।

মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংস্থাটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা ফেসবুক। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এনএসও ২০টি দেশের ১৪০০ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে স্পাইওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

এদিকে নজরদারির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া বিশিষ্টজনেরা এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাদের অ্যাকাউন্টে স্পাইওয়্যার ঢুকিয়ে আড়িপাতার চেষ্টা হয়েছিল, তারা এত দিন পর্যন্ত কিছু জানতে পারেননি।

হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা প্রযুক্তিও নিয়ে তারা সন্দিহান। ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে গিয়েছে কি না, সে বিষয়েও তারা নিশ্চিন্ত নন। তবে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, তাদের অ্যাকাউন্ট আগের মতোই সুরক্ষিত।

ইতিমধ্যেই ইজরাইলের এনএসও নামক একটি সংস্থার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ দায়ের করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। জানা যাচ্ছে, প্রায় ১৪০০ মানুষের ফোনের তথ্যের ওপর নজর রাখছিল ওই সংস্থাটি। প্রায় চারটি মহাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত, কূটনৈতিক, সাংবাদিক এবং সরকারি আধিকারিকদের ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহ করছিল ইজরায়েলি সংস্থাটি।

হোয়াটসঅ্যাপের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভারতের সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের ‘টার্গেট’ করেছিল ওই সংস্থাটি। যদিও কাদের ফোনে নজরদারি চালাচ্ছিল সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানানো সম্ভব না বলে জানানো হয় হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *