মহানগর

“কাশ্মীর ঠান্ডা, বাংলাকেও ঠান্ডা করে দিন, বাংলা পাকিস্তান হয়ে যাচ্ছে”, বিজেপিতে যোগ দিয়েই রং চেনালো সব্যসাচী

  •  
  •  
  •  
  •  

বি.বি নিউজ ওয়েবডেস্কঃ গত লোকসভা ভোটের সময় থেকেই জল্পনা ছিল। কিন্তু বারেবারেই ভেঙে গিয়েছে রাজারহাট–নিউটাউনের তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের দলবদল। অবশেষে যবণিকা পতন। শেষপর্যন্ত অবশ্য বিজেপিতেই যোগ দিলেন একদা তৃণমূলের বিশ্বস্ত সৈনিক। মঙ্গলবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিজেপি’‌র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিলেন সব্যসাচী। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত উত্তরীয় পরলেন তিনি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই সব্যসাচীর সঙ্গে উষ্ণ আলিঙ্গন করলেন অমিত শাহ।

ফলে রাজ্যে বিজেপি’‌র শক্তি কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এরপর মঞ্চে উঠে সব্যসাচী বলেন, ‘‌বিজেপিতে যোগ দিয়ে গর্ববোধ করছি। আমার কাছে আগে দেশ, তারপর দল, তারপর ব্যক্তি। মোদিজির কাজে আমরা গর্বিত। মুকুলদা আমার পরিবারের সদস্য। বাড়িতে কেউ এলে আতিথেয়তা করি। যারা এই আতিথেয়তাকে ভয় পায় তারা মানুষের পর্যায় পড়ে না। তারা অন্য গ্রহের প্রাণী।”

সম্প্রতি হাউসটনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎ নিয়ে সব্যসাচী এদিন বলেন, “বিদেশে পা রাখলে আগে এই চিত্র দেখা যেত না।”

৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বিলোপ হওয়া কাশ্মীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন সব্যসাচী। প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, “কাশ্মীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। অমিত শাহজির কাছে আমার বিনীত অনুরোধ বাংলাকেও ঠান্ডা করে দিন।”

সব্যসাচী এদিন এনআরসি নিয়ে বলেন, এনআরসি নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু ভারত থেকে কেউ যাচ্ছে না। তবে অনুপ্রবেশকারীদের বাইরে যেতে হবে।’ এরপর অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, ‘‌বাংলা ধীরে ধীরে পাকিস্তান হয়ে যাচ্ছে। বাঙালিকে বাঁচান অমিত শাহ।’‌ ‌

প্রসঙ্গত বহুদিন ধরেই সব্যসাচীর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা বাড়ছিল।বরাবরই মুকুল ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তাই মুকুল রায়ের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ছিন্ন হলেও, সব্যসাচী মুকুলকে ছাড়েননি। কখনও বাড়িতে, কখনও নিজের ক্লাবে মুকুল রায়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। কখনও নিজে গিয়ে মুকুলের সঙ্গে দেখা করেছেন। কখনও আবার নির্দিষ্ট কোনও ইস্যুতে নিজের দলের বিরুদ্ধেই মুখ খুলেছেন। অবশেষে জুলাই মাসে সব্যসাচীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। তাঁকে বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে সরানোর তোড়জোড় শুরু হয়। ১৮ জুলাই সব্যসাচী নিজেই ইস্তফা দেন মেয়র পদে। এরপর তাঁর দলবদলের জল্পনা আরও বাড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *