Bengal Breaking News
ইতিহাস দেশ

মাদ্রাসা গুলোই দেশের স্বাধীনতা ও ঐক্য রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে: সিদ্দিকুল্লাহ

  •  
  •  
  •  
  •  

বেংগল ব্রেকিং নিউজ ডেস্ক : মাদ্রাসা গুলোই দেশের স্বাধীনতা ও ঐক্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রাবেতায়ে মাদারিসে ইসলামিয়ার সংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা গুলো বলেন।

তিনি আরো বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মাদ্রাসা গুলোর ভূমিকা ছিল। দেশপ্রেম সহিংসতা রক্ষার কথা মমাদ্রাসা গুলোতে এখনও বলা হয়। তবে বর্তমানে বিভিন্নভাবে সেই মাদ্রাসাকেই টার্গেট করা হচ্ছে বলে তিনি আক্ষেপ করেন।

ওই সংবাদিক সম্মেলনেই দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষক মাওলানা শওকত আলী বলেন, আমাদের নেতারা গান্ধীজীকে নেতা মেনেছিলেন। ধর্মের নামে, ভাষায় নামে, গোত্রের নামে বিভাজন করার অনুমতি নেই ইসলামে। ইসলামে জাতপাত নেই, হিংসা নেই, অসহিষ্ণুতা নেই। তিনি আরো বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষা করে। বিনা খরচে তাদের শিক্ষা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষণ রেড্ডি সংসদে নথি পেশ করে বলেছেন যে, পশ্চিমবাংলার মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলছে। সেই বক্তব্যের বিরোধিতাকরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দুঃখের বিষয়, মাদ্রাসা শিক্ষা কী? এটি কেন দেওয়া হয়? কাদের দেওয়া হয়? এবিষয়ে কী তিনি কোন‌ও পড়াশোনা করেছেন? কখনও জানার চেষ্টা করেছেন?

জমিয়তের রাজ্য সভাপতি বলেন, বলাবাহুল্য, সাড়ে ১৪০০ বছর পূর্বে মদিনা শরীফের মসজিদের চাতালে দয়ার মুহাম্মদ সা. তাঁর অনুসারীদের শিক্ষা প্রদান করতেন যা আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত ছিল। সাড়ে ১৪০০ বছরের সেই ধারা পৃথিবীজুড়ে বেসরকারি মাদ্রাসার মাধ্যমে অব্যাহত আছে। ১৫০ বছর ধরে দারুল উলূম দেওবন্দের দূরদর্শী চিন্তাভাবনার ফলে ভারতে অসংখ্য মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে এবং সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মাদ্রাসায় নামায- রোযা, ইসলামি আদর্শ, ব্যবহারশাস্ত্র, মহিলাদেরকে সম্মান করা, অপরের অধিকার কেড়ে না নেওয়া, দেশপ্রেম, মানবপ্রেমের শিক্ষা দেওয়া হয়। খাগড়াগড়-কাণ্ডের সময় আমরা বলেছিলাম, এন‌আইএ পশ্চিমবঙ্গের কোন‌ও মাদ্রাসার সঙ্গে সন্ত্রাস যোগের প্রমাণ দিক। আমরাই সেই মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেব। আজ পর্যন্ত এন‌আইএ বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মাদ্রাসার সঙ্গে সন্ত্রাসযোগের কোন‌ও তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি।

সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব বলেন, মুসলিম নামধারী কেউ যদি কোন‌ওরূপ সন্ত্রাসী কাজে যুক্ত থাকে, তাহলে সে ব্যক্তিগতভাবে দোষী। মাদ্রাসা ইস্যুতে ধর্মীয় বিভাজন ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্যই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে আমি মনে করি।

তিনি বাংলার মাদ্রাসা পরিচালকদের বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নিয়ম মেনে মাদরাসা পরিচালনা করুন। মাদ্রাসা ছিল, আছে এবং ইনশাআল্লাহ কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimized with PageSpeed Ninja