Recent News ধর্ম ও দর্শন

মসজিদের বাইরে সিজদারত পথশিশুর ছবি ভাইরাল

  • 51
  •  
  •  
  •  
    51
    Shares

বিবি নিউজ ডেস্ক:: এই ছবিটি আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ছবিটি ফেসবুকের বিভিন্নজনের ওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
বিভিন্ন জন ছবিটি শেয়ার করে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন। কেউ লিখেছেন বাচ্চাটিকে মসজিদে ঢুকতে দেওয়া হয়নি তাই বাইরেই নামাজ আদায় করেছে।

আবার অনেকেই লিখেছেন গায়ে কোন কাপড় না থাকায় সে নিজেই ভিতরে যায়নি। কিন্তু ছবিটি যে সবার মনে দাগ কেটেছে তা বলাই বাহুল্য।

উবায়দুর রহমান খান নদভী বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবে লিখেছেন:
মসজিদে শিশুদের প্রতি আচরণ
বাংলাদেশ মনে হয় পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে মসজিদ থেকে শিশুদের দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছু খিটখিটে মেজাজের মুসল্লি কোনোকিছু না বুঝেই এমন আচরণ করেন, যা মানুষ জীবজন্তুর প্রতিও করে না।

কোনো কোনো মসজিদে ইমাম ও খাদেমরাও এতে প্রভাবিত হয়ে যান। তারাও শিশুদের তাড়ানোর পক্ষে কাজ করেন। যেসব শিশু পেশাব পায়খানার বয়স পার করেনি বা সাথের গার্জিয়ানকে দেখতে না পেলেই চিৎকার করে কান্না জুড়ে দেয় এদের কথা আলাদা।

তবে, যারা ৭/৮ বছর পার করেছে, তাদের মসজিদে আসতে বাধা কোথায়। হাদীসে তো এ বয়সে তাদের নামাজের হুকুম দেয়ার কথা এসেছে। ১০ বছরের সময় নামাজ না পড়লে কঠোরতার কথাও হাদীসে এসেছে।

প্রিয় নবী সা. যখন ঘরে নামাজ পড়তেন। তার দ্ইু শিশু নাতি হযরত হাসান ও হোসাইন রা. তখন তাদের নানাজির কোলে বসতেন। সেজদার সময় ঘাড়ে ও পিঠে চড়তেন। নবীজি সা. সেজদা শেষ হলে তাদের সুন্দর করে নিচে নামিয়ে তবে সেজদা থেকে মাথা তুলতেন। পরের সেজদায় তার আবার এমনই করতেন। হযরতও আবার তাদের সযত্নে নামিয়ে নামাজ শেষ করতেন।

অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবী করিম সা. নিজে ঘোড়ার মতো হামাগুড়ি দিতেন, নাতিরা তার পিঠে চড়ে আনন্দ পেত। এক সাহাবী এসে এ দৃশ্য দেখে বললেন, পৃথিবীতে এমন সওয়ারী আর কেউ পাবে না।-আল হাদীস। শিশুদের প্রতি হযরত যে আচরণ করতেন তা আদর্শ মানুষের জন্য অনুকরণীয়।
একবার উমায়ের রা. নামক এক বালক সাহাবীর পালিত বুলবুলি পাখি মরে গেলে বালক সাহাবী খুব কাঁদতে লাগলেন। খবর শুনে পরে যখন নবী করিম সা. তাকে দেখতে পেলেন, তখনও তার মন খারাপ। হযরত সা. তখন ছন্দ মিলিয়ে বললেন, ‘ইয়া উমায়ের, মা ফাআলা বিকা আন নুগায়ের!’ অর্থাৎ হে প্রিয় উমায়ের, তোমার বুলবুলিটি তোমার সাথে এ কি করল!

নবীজির এ উক্তি শুনে বালক উমায়ের রা. হেসে দিলেন। প্রিয় নবী নামাজ পড়ানোর সময় কোনো শিশুর কান্না শুনলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন। বলতেন, এর মা হয়তো মসজিদের জামাতে আছে। বাচ্ছাটি যেন দীর্ঘ সময় মা ছাড়া না থাকে। আর মা-টিও যেন নামাজে অস্থিরতায় না ভোগে এ জন্য আমি নামাজ ছোট করে শেষ করেছি।-আল হাদীস। নির্দেশ দিয়েছেন, নামাজে রোগী ও বৃদ্ধ মুসল্লীর দিকে খেয়াল করে নামাজ পড়াবে।

তুরষ্কের কোনো কোনো মসজিদে পোস্টার লাগানো থাকে ‘যদি জামাতের সময় পেছনে শিশুর কলরব শোনা না যায়, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে আমাদের ভয়ের কারণ আছে।’

পবিত্র মক্কা-মদীনাসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আরবরা শিশুদের নিয়ে মসজিদে আসে। ইউরোপ-আমেরিকায় ইসলামিক সেন্টার তৈরিই করা হয় নামাজখানা, পাঠাগার, ডে-কেয়ার, শিশু কর্ণার, মিলনায়তন, ক্যাফে ইত্যাদি সমন্বয়ে।
মসজিদ যেন মুসলমান সমাজের মিলন কেন্দ্র।

বড়রা যখন থাকবেন না, মসজিদের সামনের কাতারগুলো যখন ধীরে ধীরে খালি হয়ে যাবে, তখন এই শিশুরাই সেসব কাতারে নামাজ পড়বে। তখন তারাই হবে বড় বড় মুসল্লি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *