ইতিহাস

যুদ্ধ জাহাজে রাজীব গান্ধীর প্রমোদ ভ্রমণ, নরেন্দ্র মোদীর দাবি খারিজ করলেন প্রাক্তন নৌ কর্তা

  • 76
  •  
  •  
  •  
    76
    Shares

বিবি নিউজ ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন বর্তমান। প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী সপরিবার আইএনএস বিরাট (INS Virat) যুদ্ধজাহাজে প্রমোদ ভ্রমণে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আইএন এস বিরাটকে রাজীব ব্যক্তিগত ট্যাক্সির মতো ব্যবহার করেছে বলে দাবি মোদীর।

কিন্তু তাঁর দাবি খারিজ করলেন প্রাক্তন নৌ কর্তা। ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর মাসে আইএনএস বিরাটের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল বিনোদ পাশরিচা মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর দাবি সঠিক নয়। তাঁর আরও মনে হয় সেনা বাহিনীকে রাজনীতির অংশ করে দেওয়া ঠিক নয়।

লাক্ষাদ্বীপে সরকারি কাজে গিয়েছিলেন রাজীব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সোনিয়া এবং ছেলে রাহুল। এছাড়া দুই আইএ স অফিসার ছিলেন সেই সফরে। এর বাইরে অমিতাভ বচ্চন বাঁ সোনিয়া গান্ধীর বাবা মা সেখানে ছিলেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা ঠিক নয় বলে মনে করেন বিনোদ।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন ওই সফরে অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে সোনিয়া গান্ধীর অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। এই দাবি খারিজ করে বিনোদ বলেন, ‘সোনিয়া গান্ধী, রাজীব গান্ধী, রাহুল এবং দুই আইএএস অফিসার ছাড়া আর কেউ সেখানে ছিলেন না।

তিনি জানান তিরুবন্তপুরম থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল। হেলিকপ্টারের সাহায্যে সকলে জাহাজে এসে পৌঁছেছিলেন। তিরুবন্তপুরমে এমন কোনও ব্যবস্থা নেই যার সাহায্যে আইএনএস বিরাটের মতো যুদ্ধ জাহাজ স্বাভাবিক ভাবে কাজকর্ম করতে পারে। রাজীব লাক্ষাদ্বীপে একাধিক বৈঠক করেছিলেন সেবার। হেলিকপ্টারে করে কয়েকটি দ্বীপের পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন তিনি। যাত্রার দ্বিতীয় দিন সকালে হেলিকপ্টারে চড়ে একটি দ্বীপে গিয়ে পৌঁছন রাজীব। তারপর আরও তিনটি দ্বীপে গিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। কামান্ডারের পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলে নৌবাহিনীর তৎকালীন প্রধান অ্যাডমিরাল আর এল রামদাসও সে সময় আইএনএস বিরাটেই ছিলেন। তিনিও বিনোদের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে একটি বিবৃতি জারি করে তিনি বলেছেন আমি শুধু এটুকুই বলবো প্রধানমন্ত্রী যা বলছেন সেটা প্রকৃত ঘটনা নয়। সে সময়ের তিন নৌ কর্তা অ্যাডমিরাল অরুন প্রকাশ অ্যাডমিরাল বিনোদ এবং ভাইস অ্যাডমিরাল মদনজিৎ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন গান্ধী বাড়ির প্রয়োজনে কোনও জাহাজের ব্যবহার হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *