দেশ

নদীতে নৌকায় আইসোলেশনে নদীয়ার বৃদ্ধ, ভিন জেলা থেকে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে ঘোর বিপত্তি

  •  
  •  
  •  
  •  

বি.বি নিউজ ওয়েবডেস্কঃ করোনা আতঙ্কে এখন একই বাড়ির সদস্যরাও যেন একে অপরের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। শুনতে অবাক লাগলেও পরিস্থিতি এমনই। আর কেউ কোনো কাজে বাইরে বেরোলে তো কোনো কথাই নেই। ঘরে না ফেরা পর্যন্ত একরকম উৎকণ্ঠা আবার ঘরে ফিরে এলে তাঁকে কতভাবে কত তাড়াতাড়ি স্যানিটাইজ করা যায় তা নিয়ে আরও বেশি উৎকণ্ঠা। এখন আশেপাশের কেউ অসুস্থ হলেই এলাকা জুড়ে নিমেষের মধ্যে সেই খবর গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। সচেতনতার ঠেলায় পাশের বাড়ির অসুস্থ প্রতিবেশীর কথা কেউ কেউ থানায় ফোন করেও জানাচ্ছেন।

লকডাউনে ঘরবন্দী মানুষ এমনই নানান সচেতনতা মূলক কর্মসূচি পালন করছেন নিজের মত করে। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে ভিন দেশ বা ভিন রাজ্য ফেরত মানুষদের নিয়ে। এক্ষেত্রে শহর থেকে গ্রামের চিত্রটা প্রয় একই রকম। সুস্থ শরীরে বাড়িতে ফিরলেও বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে আবার হাসপাতালেও কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। তবে অন্য জেলা থেকে আত্মীয়ের বেড়াতে গিয়ে অভিনব কোয়ারেন্টাইনে কাটাতে হচ্ছে এক বৃদ্ধকে।

নাওয়া, খাওয়া রাত্রিযাপন সবই চলছে নদীর তীরে বাঁধা নৌকায় থেকে। নবদ্বীপের পাবনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কীর্তনিয়া নিরঞ্জন হালদার গিয়েছিলেন মালদার হবিবপুরের বুলবুলচন্ডীতে নিজের ভাগ্নির বাড়িতে। তবে গ্রামে পা রাখা মাত্রই গ্রামবাসীদের দাবি মতো স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হয় নিরাঞ্জন বাবুকে। কারণ তিনি ভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা তাঁকে হোম কোয়রান্টাইনে থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু সমস্যা হল ভাগ্নির বাড়িতে বাড়তি ঘর নেই। কিন্তু ওই গ্রামের অন্য কোনো বাড়িতেও ঠাঁই হয়নি ওই বৃদ্ধের। তাই অগত্যা নৌকায় থাকতে শুরু করেন তিনি। যদিও নিয়মিত ভাগ্নির বাড়ি থেকেই আসছে খাবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *