আজব দুনিয়া

সব প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে দিল্লিতে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা কিশোরকিশোরীরা

  •  
  •  
  •  
  •  

বিবি নিউজ ডেস্ক: মায়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচারে শিকড় উপড়ে চলে আসতে হয়েছে ভিনদেশে। কিন্তু প্রাণের ভয়, অপমান, অসহায়তা কোনও কিছুই হারাতে পারেনি এদের। উত্তর পশ্চিম দিল্লির খাজুরি খাস অঞ্চলের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু কিশোরকিশোরীরা সমস্ত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছে নিজেদের লক্ষ্যে। কারও ইচ্ছে পড়াশোনা শিখে বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়ার, কেউ বা হতে চান র‍্যাপ শিল্পী।

রোহিঙ্গা মানবাধিকার উদ্যোগের আওতায় এখানকার কিশোরকিশোরীদের একটি চার মাসের শিক্ষামূলক পাঠক্রম পড়ানো হয়। পাঠক্রমে তাদের হিন্দি, ইংরেজি, বার্মিজ ভাষার পাশাপাশি শেখানো হয়েছিল কম্পিউটারের ব্যবহারও। চার মাস পর গত রবিবার, ১৪ জুলাই তাদের একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ভাল ফল করা ছাত্রছাত্রীদের সমাদৃত করে মানপত্র দেওয়া হয়। খবরে প্রকাশ, এই পরীক্ষায় ভাল ফল করে পুরস্কৃত ছাত্র রিয়াজ উল-খান (১৬) জানিয়েছে, সে ভবিষ্যতে ‘পারফর্মিং আর্টস’ নিয়ে পড়াশোনা করে র্যাপ শিল্পী হতে চায়। ভারত এবং অন্যান্য দেশের বহু র্যাপ শিল্পীর গান তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সুতরাং সে এই কাজকে পেশা হিসেবে নিতে চায়।

রিয়াজের পরিবার আরও ৬৫টি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু পরিবারের সঙ্গে ২০১১ সালে পালিয়ে আসে ভারতে। গত আট বছর ধরে তাদের ঠিকানা দিল্লির খাজুরি খাস। রিয়াজের ছোট বোন সালমা (১৪) আঞ্চলিক একটি সরকারি স্কুলের ছাত্রী। মানুষকে সাহায্য করতে তার ভাল লাগে, তাই সে চায় বড় হয়ে চিকিৎসক হতে। সারাদিনের মধ্যে স্কুলের সময়টাই তার সবথেকে প্রিয়, কারণ অনেক নতুন কিছু শেখা যায় এবং বন্ধুদের সঙ্গে খেলাও যায়। এই রোহিঙ্গা মানবাধিকার উদ্যোগের আওতায় রোহিঙ্গা ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি পড়ানো হয় ভারতের অন্যান্য রাজ্যের দুঃস্থ এবং অবহেলিত কিশোরকিশোরীদেরও। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের প্রকল্পগুলি প্রাথমিক ভাবে শাহিন বাগে আয়োজিত হলেও বর্তমানে স্থানান্তরিত হয়েছে খাজুরি খাস-এ। উদ্যোগের প্রধান পরিচালক আলি জোহর জানিয়েছেন, শিক্ষাই তাঁদের একমাত্র সমাধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *