আজব দুনিয়া

আতঙ্ক কাটাতে তুর্কমেনিস্তানে করোনা শব্দ নিষিদ্ধ, উচ্চারণ করলে হতে পারে জেল

  •  
  •  
  •  
  •  

বি.বি নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে আলোচিত শব্দ করোনাভাইরাস। এই শব্দের সঙ্গে যেন মিশে আছে ভয়, আশঙ্কা আর আতঙ্ক। এই শব্দটিই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তান।

এক সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত মধ্য এশিয়ার এ দেশটির পাশেই অবস্থান ইরানের। ইরানে করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ইরানের পাশে অবস্থান সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করেছে তুর্কমেনিস্তান প্রশাসন। তাই ভয়ানক ভাইরাস ‘করোনা’র নাম ব্যবহারেও জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

দেশটির সরকারের দাবি, সেখানে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। কিন্তু কেউ যদি প্রকাশ্য স্থানে করোনাভাইরাস শব্দটি উচ্চারণ করেন, তাহলে তার গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেননা দেশটির শাসক গার্বাঙ্গুলি বার্দিমুখাবেদভ এই শব্দটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

দেশটির নাগরিকদের জনসম্মুখে বিশেষ করে রাস্তাঘাট, বাস স্টপেজগুলোতে এই শব্দ নিয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি কোনো নাগরিক এই আইন অমান্য করে তবে তাকে জেল-জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া করোনার এই সংকটময় মুহূর্তে আরো কিছু অদ্ভুত আইন চালু করেছে দেশটি।

সারাবিশ্ব করোনা প্রতিরোধে নিয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এর মধ্যে জনসাধারণের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে অধিকাংশ দেশ। আর তুর্কমেনিস্তানে মাস্ক পরা কাউকে রাস্তায় দেখলেই গ্রেফতার করছে পুলিশ।

মার্চ মাসের ১৩ তারিখ দেশটির রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।স্বৈরাশাসনের কবলে থাকা দেশটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকায় ওই অদ্ভুত আইনের খবরটি বেশ কয়েক হাত ঘুরে সম্প্রতি প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের হাতে পৌঁছায়। যা মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের সংবাদকর্মীরা জানিয়েছে, তুর্কমেনিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে দেশের স্বাস্থ্যতথ্য সম্বলিত একটি ছোট বই বের করা হয়েছে। দেশটির নাগরিকদের স্বাস্থ্য খাতের খবরাখবর জানাতে স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মক্ষেত্রে বইটি বিতরণ করেছে দেশটির সরকার। সেখানে করোনাভাইরাস শব্দটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফেস মাস্ক ব্যবহার এবং করোনাভাইরাস নিয়ে জনসম্মূখে কথা বললে সাদা পোশাকের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতে পারেন বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

প্যারিসে বসবাসকারী তুর্কমেনিস্তানের সাংবাদিকরা জানান, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন তাদেরই পুলিশ গ্রেফতার করছে। একই শাস্তি জুটবে যারা করোনা শব্দ ব্যবহার করবে তাদের ভাগ্যেও। ফলে, জ্বর, সর্দি-কাশি হলেও প্রশাসনের ভয়ে কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন না।

ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ২০১৯ তালিকা অনুযায়ী তুর্কমেনিস্তানের স্থান সবার নিচে। গ্যাস সমৃদ্ধ তুর্কমেনিস্তানে কার্যত চলছে স্বৈরশাসন।

তুর্কমেনিস্তান প্রেসিডেন্ট গুরবাঙ্গুলি বেরদিমুখামেদভ ২০০৬ সাল থেকে দেশটি শাসন করছেন। সেদেশে প্রেসিডেন্টকে ‘আরকাদক’ বলেই মনে করা হয়। বাংলায় যার অর্থ রক্ষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *