ধর্ম ও দর্শন

বৃষ্টিতে মা কালীর মূর্তি বাঁচাতে নিজের ঘরের দরজা খুলেদেওয়া মুসলিম যুবককে সংবর্ধনা প্রশাসনের

  • 604
  •  
  •  
  •  
    604
    Shares

বেংগল ব্রেকিং নিউজ ডেস্ক : দেশে যখন কিছু অসাধু লোক সাম্প্রদায়িক, ধর্মীয় বিভাজনের খেলায় নেমেছে। তখন সম্প্রীতির নজির গড়েছিলেন ফরজ শেখ। কাটোয়ার খাজুরডিহি গ্রামের মৃৎশিল্পী অসীম পাল কালীপুজোর মুখে বরাতের প্রতিমাগুলি বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তা দেখে এগিয়ে আসেন ফরজ। নিজের ঘর খুলে দিয়ে কালীর মূর্তিগুলিকে রাখার জায়গা করে দেন। যার ফলে বৃষ্টিতে ক্ষতির হাত থেকে বাচে প্রতিমা গুলো।

সম্প্রীতির এহেন নজিরকে সম্মান জানাল কাটোয়া থানা। সংবর্ধনা দিল ফরজ সাহেবকে। ফরজের হাতে পুষ্পস্তবক, স্মারক–সহ নানা উপহার তুলে দেন কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, মহকুমা শাসক সৌমেন পাল, এসডিপিও ত্রিদিব সরকার, আইসি বিকাশ দত্তরা।

এ জন্য কাটোয়া থানাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিধায়ক রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেন। তার নেতৃত্বে গোটা রাজ্যে আমরা এই সম্প্রীতির সৌরভ ছড়িয়ে দিচ্ছি। খাজুরডিহি গ্রামের ফরজ সাহেব সেই সম্প্রীতিকেই দৃঢ় করলেন।’ আর ফরজ সাহেবকে সংবর্ধিত করে সম্প্রীতির বার্তাটিকে প্রসারিত করাই লক্ষ্য বলে জানালেন এসডিপিও ত্রিদিব সরকার, আইসি বিকাশ দত্তরা।

প্রতিবেশী ফরজ সাহেবকে সম্মানিত করা হয়েছে জেনে আপ্লুত খাজুরডিহি গ্রামের মৃৎশিল্পী অসীম পালও। তিনি বললেন, ‘সেদিন ফরজ সাহেব নিজের নমাজ পড়ার ঘর খুলে আমার ঠাকুরগুলিকে বৃষ্টির হাত থেকে বাচিয়ে যে উপকার করেছেন, সেইজন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। বৃষ্টিতে প্রতিমাগুলির রং গলে গলে পড়ছিল। তিনি ঘর না দিলে অর্ডারের ঠাকুরগুলি দিতে পারতাম না। আমার মান–সম্মান সবই যেত।’

তবে তিনি যে খুব বিশাল কিছু করে ফেলেছেন, তা মানতে নারাজ ফরজ সাহেব। বললেন, ‘কী আর এমন করেছি! বড় ঘর। নমাজ পড়তে আর কতটা জায়গা লাগে! ঠাকুরগুলো নিয়ে বেচারি নাস্তানাবুদ হচ্ছিল। তাই ফাঁকা জায়গায় রাখতে দিয়েছি। পাশাপাশি থাকি। এটা তো আমার কর্তব্য।’

এমন কর্তব্যবোধ যদি সবার থাকত, তা হলে তো আর এত হানাহানিই হত না বলে মনে করছে গোটা খাজুরডিহি গ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *