বিদেশ

“মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসাবে সাজানোর চেষ্টা চলছে”- সুপ্রিমকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি কাটজু

  • 9.7K
  •  
  •  
  •  
    9.7K
    Shares

বিবি নিউজ ডেস্কঃ আগাগোড়া ঠোট পাতলা, হক কথা বলা সুপ্রিমকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কন্ডেয় কাটজু অভিযোগ করলেন ভারতীয় মুসলিমদের পরিকল্পিতভাবে ধর্মান্ধ ও সন্ত্রাসবাদী সাজানো হচ্ছে। প্রায়ই মুসলিমদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এদিকে যখনই কোন বোমা বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কাজ ঘটছে, পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না।
অজ্ঞাতপরিচয় কোন ইমেইল প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মিডিয়া জানিয়ে দিচ্ছে, কোন মুসলিম সংগঠন অপরাধের দায় স্বীকার করেছে। তারপর সমগ্র মুসলিম সমাজকে কাঠগোড়ায় তোলা হচ্ছে। এভাবেই স্বাধীনতা দিবসের দিন অভিযোগ শানিয়েছেন প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিচারপতি কাটজু।

কাটজুর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সুপ্রিমকোর্ট এর বিচারপতি হিসাবে কাজ করার পাশাপাশি দিল্লী ও মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব সামলেছেন।

স্বাধীনতা দিবসের দিন এক ফেসবুক পোষ্টে কাটজু মমন্তব্য করেন, আইএস এর হয়ে কাজের সন্দেহে হায়দ্রাবাদ থেকে ২৪ বছর এবং ১৯ বছর বয়সী দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কাটজু কয়েকটি মামলার উল্লেখ করে জানান, গ্রেপ্তারের এই প্রক্রিয়া একটি সর্বনাশা চক্রান্তের অংশ। এই চক্রান্ত সংখ্যালঘু মুসলিম বিরোধীদের। কাটজু উল্লেখ করেছেন ইন্দ্র দাস ও অসমের মধ্যে এবং ২০১১ সালে রানিফের সাথে কেরালার চলা মামলা প্রসঙ্গ। এই মামলার রায়ে আদালত নির্দেশ দেয় সংসর্গ করার দায়ে কাউকে সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে না।

কাটজু উল্লেখ করেন এভাবে মিথ্যা মামলায় ফেঁসে নির্দোষ মুসলিম যুবক নাসিরুদ্দিন ২৩ বছর কারাবাস করেছেন। আমির নামে আর এক নির্দোষ মুসলিম যুবক ১৪ বছরের কারাবাস করেছেন। দুটি ক্ষেত্রেই দীর্ঘ অন্যায় কারাবাসের পরে উভয়েই আদালতের রায়ে নির্দোষ সাব্যস্ত হয়।
বিচারপতি কাটজু ফেসবুকে আরোও লিখেছেন, যখনই ভারতে কোন বোমা বিস্ফোরণ বা এজাতীয় কোন হামলার ঘটনা ঘটে তৎক্ষণাৎ সেটার দায় বর্তায় ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন বা হরকত-উল-জেহাদ-ই ইসলামের মত সংগঠনের উপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির প্রেরণ করা এসএমএস বা ই-মেইলের জেরে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কেননা একপেশে সংবাদমাধ্যম এই বার্তাই দিতে চায় যে সমস্ত মুসলিমরাই আদতে সন্ত্রাসী মনোভাবাপন্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *