Bengal Breaking News
বিদেশ

মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে চীনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ২২ রাষ্ট্রদূতের চিঠি

  •  
  •  
  •  
  •  

বিবি নিউজ ওয়েবডেস্কঃ শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমসহ অন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চীনের নির্মম আচরণের প্রতিবাদে জাতিসংঘে কমপক্ষে ২২টি দেশের রাষ্ট্রদূত নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এ বিষয়ে যৌথভাবে একটি চিঠি লিখেছেন জাতিসংঘে। তাতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের স্বাধীনভাবে চলাচল করার অনুমতি দিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি কমপক্ষে ২২টি দেশের পক্ষে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতরা। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বৃটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান প্রভৃতি। ২২টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করে তা পাঠিয়ে দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদের প্রেসিডেন্ট কোলি স্যেক ও মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেলে ব্যাচেলেটের কাছে। উল্লেখ্য, চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ সিনজিয়াং।

সেখানে বসবাসকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই উইঘুর মুসলিম। কিন্তু চীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে নানা রকম নিষ্পেষণ চালাচ্ছে। তাদের কমপক্ষে ১০ লাখ সদস্যকে বিভিন্ন অন্তর্বর্তী শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদেরকে বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। কিন্তু চীন সরকার বলছে, তাদেরকে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে আরও মর্মান্তিক খবর বেরিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বহু সংখ্যক শিশুকে আটকে রেখেছে চীন। তাদেরকে পিতামাতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আটকে রাখা হয়েছে।

ওইসব শিবিরকে নির্যাতন চালানোর ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলে বর্ণনা করেছে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ ও তাতে থাকা সাবেক বন্দিরা। তারা বলেছে, ওইসব বন্দিশিবিরে আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই মুসলিম উইঘুর। এ ছাড়া আছে কিছু অন্যান্য সংখ্যালঘু। তাদেরকে চীনের জাতিগত হ্যান সমাজের সঙ্গে জোর করে মিশিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। জাতিসংঘে লেখা ওই চিঠিতে রাষ্ট্রদূতরা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, সেখানে খেয়ালখুশিমতো আটকের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট আছে। ব্যাপক নজরদারি করা হয়। নানারকম বিধিনিষেধ আছে। বিশেষ করে এসব প্রয়োগ করা হয় সিনজিয়াংয়ের উইঘুর ও অন্য সংখ্যালঘুদের উপরে। চিঠিতে খেয়ালখুশি মতো আটক বন্ধ করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওইসব রাষ্ট্রদূত। তারা উইঘুর, উইঘুর মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবাধ চলাচলের অনুমতি দেয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন চীন সরকারের প্রতি।

ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতরা এই চিঠি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত। তারা এই চিঠিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই কাউন্সিলের ৪১তম অধিবেশন শুক্রবার শেষ হচ্ছে জেনেভায়। এই পরিষদ বা কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ৪৭। কোনো দেশের রেকর্ড নিয়ে সমালোচনা করে এই পরিষদে কূটনীতিকদের খোলা চিঠি পাঠানোর ঘটনা বিরল। এবার তাই ঘটলো। তারা সিনজিয়াংয়ের মুসলিমদের বিরুদ্ধে চালানো নির্যাতনের বিষয়ে চুপ থাকতে পারেননি। তাই খোলাচিঠি লিখেছেন জাতিসংঘের প্রতি।

উল্লেখ্য এর আগেই বিবিসি পরিস্থিতি নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মুসলিম উইঘুর সংখ্যাগরিষ্ঠ শিনজিয়াং অঞ্চলে এমনটা ঘটছে। নতুন গবেষণার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, লাখ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমকে যখন বিশাল আকারের শিবিরে আটক করে রাখার পাশাপাশি, শিনজিয়াং প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বহু আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। প্রকাশ্যে উপলভ্য নথি ও বিদেশে বসবাসরত কয়েক ডজন পরিবারের সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বিবিসি এ দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimized with PageSpeed Ninja